দেখো আমি কতটা বেইহায়া, তাই না… তবুও তোমাকেই চাই — একতরফা ভালোবাসার হৃদয়ভাঙ্গা সত্য
অনেকেই বলে, ভালোবাসা নাকি দুইজনের ব্যাপার। কিন্তু সত্যিটা হলো—অনেক সময় একা একজনই পুরো সম্পর্কের ভার কাঁধে তুলে হাঁটে। কেউ কাউকে যতটা চায়, অপরজন সেই চাওয়ার কাছাকাছি পৌঁছায়ও না। তবুও সেই মানুষটিই থেকে যায়… কারণ অনুভূতি কখনও সমান হয় না, এটাই বাস্তব।
আজকের লেখাটা তাদের জন্য—
👉 যারা কাউকে প্রাণের মতো ভালোবাসে, কিন্তু সেই মানুষটি তাদের দিকে ফিরেও তাকায় না।
👉 যারা বারবার নিজের অনুভূতি চাপা রাখতে চেয়েও পারেনি।
👉 যারা জানে—অন্য কেউ আছে তার জীবনে, তবুও মন মানতে চায় না।
কারণ হৃদয় তো যুক্তির কথা শোনে না… সে শুধু অনুভব করে।
“দেখো আমি কতটা বেইহায়া, তাই না… তুমি অন্য কাউকে চাও তা জেনেও, তবুও আমি শুধু তোমাকেই চাই…”
হয়তো তোমার কাছ থেকে এই স্বীকারোক্তি সে কখনোই শোনেনি।
হয়তো শুনলেও গুরুত্ব দিত না।
কিন্তু সত্যি কথা হলো—
ভালোবাসা কখনোই লজ্জা পায় না।
ভালোবাসা কখনোই হার মানে না।
ভালোবাসা কখনোই ‘বেইহায়া’ হয় না।
বরং যে ভালোবাসার সাহস রাখে, সে-ই মানুষ বেশি ভোগে, বেশি কাঁদে, কিন্তু সবচেয়ে বেশি সত্যিকারের ভালোবাসতে জানে।
তুমি জানো যে তুমি তাকে পাবে না।
তুমি জানো তোমার জায়গায় অন্য কেউ আছে।
তুমি জানো তার মন, তার চোখ, তার ভবিষ্যৎ—সবই অন্য কারও দিকে ঝুঁকে আছে।
তবুও তুমি তাকে চাও।
এটাই ভালোবাসার নিষ্ঠুর, অথচ পবিত্র দিক।
একতরফা ভালোবাসা কেন এত বেশি কষ্ট দেয়?
কারণ তুমি ভাবো—
“ও বুঝলে না কেন? একটু তাকালেই তো আমার চোখে সব দেখা যায়!”
কারণ তুমি আশা করো—
“একদিন না একদিন হয়তো বুঝবে, হয়তো ফেরত আসবে…”
কারণ তুমি চাও—
“আমি যেমন করে তাকে চাই, সে-ও একদিন আমাকে ঠিক তেমনটাই চাইবে…”
কিন্তু বাস্তবতা এত সহজ নয়।
যে ভালোবাসা তোমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে সত্য অনুভূতি,
সেই ভালোবাসা তার কাছে হয়তো শুধু সাধারণ একটা অনুভূতি—বা হয়তো কিছুই না।
এই কারণেই একতরফা ভালোবাসা আগুনের মতো—
যতই নিভানোর চেষ্টা করো, ততই জ্বলে ওঠে।
তাহলে কি তোমার দোষ যে তুমি ভালোবাসো?
না।
হৃদয় তো কখনো জোর করে কাউকে বেছে নেয় না।
হৃদয় শুধু অনুভব করে—
যার চোখে আলো লাগে,
যার কণ্ঠে শান্তি লাগে,
যার উপস্থিতিতে জীবনের ভার হালকা লাগে।
ভালোবাসা কোনো ভুল না।
তুমি কাউকে চাও—এটা কোনো পাপ না।
তার অন্য কাউকে ভালোবাসা—এটাও কোনো পাপ না।
ভুল শুধু একটাই—
নিজেকে দোষী মনে করা।
“আমি বেইহায়া…”
না।
তুমি শুধু সাহসী।
কারণ সবাই স্বীকার করতে পারে না যে সে কারও জন্য ভেঙে পড়েছে।
সবাই বলতে পারে না যে সে নিজের অহংকার ছেড়ে কারও দরজায় দাঁড়িয়ে আছে।
যে মানুষটাকে এত ভালোবাসো, সে কি কখনো তোমাকে বুঝবে?
সম্ভবত না।
কারণ যাকে সহজে পাওয়া যায়, তাকে কেউ কখনো গুরুত্ব দেয় না।
যে সৎভাবে ভালোবাসে, তাকে সবচেয়ে বেশি আঘাত করা হয়।
যে নিজের মনের কথা খুলে বলে, তার অনুভূতিই সবচেয়ে বেশি অনাদর পায়।
তাই তুমি অপেক্ষা করে যাও…
একটা দৃষ্টি, একটা কথার জন্য…
যা কখনো হয়তো আসবে না।
কিন্তু ভাবো তো—
এটা কি তোমার হার?
না।
এটা তার হার।
সে একজন সৎ, গভীর, সত্যিকারের মানুষকে হারাচ্ছে।
তোমার মতো অনুভূতির মানুষ প্রতিদিন জন্মায় না।
তোমার ভালোবাসার মূল্য কি সে কখনো বুঝবে?
শুধু সময়ই এর উত্তর জানে।
আজ সে অন্য কারও জন্য ব্যস্ত।
আজ সে তোমাকে দেখেও না দেখার অভিনয় করে।
আজ সে ভাবে—তুমি তার জীবনে তেমন গুরুত্বপূর্ণ কেউ নও।
কিন্তু ভবিষ্যৎ খুব অদ্ভুত জিনিস।
যখনই সে জীবনে প্রথমবার সত্যিকারের হারিয়ে যাবে,
প্রথমবার একা অনুভব করবে,
প্রথমবার কাউকে খুঁজে পাবে না—
তখন সে বুঝবে:
“যে মানুষটা আমাকে এত ভালোবেসেছিল,
আমি তাকে কখনো গুরুত্বই দিইনি…”
কিন্তু সেই সময়ে তুমি থাকবা কিনা—
সেটা তোমার সিদ্ধান্ত।
নিজেকে দোষী মনে করবে না — ভালোবাসা কখনো লজ্জার না
তুমি কাউকে এতটা ভালোবেসেছো যে নিজেকে ভুলে যেতে পেরেছো।
এটা লজ্জার কিছু না—এটা গর্ব করার মতো বিষয়।
তুমি তাকে পাও বা না পাও—
তোমার ভালোবাসা সত্য ছিল,
তোমার অনুভূতি পবিত্র ছিল,
তোমার চাওয়া বাস্তব ছিল।
এই পৃথিবীতে সৎ ভালোবাসা খুব কম মানুষই দিতে পারে।
তুমি সেই কম মানুষগুলোর একজন।
শেষ কথা: তুমি ‘বেইহায়া’ নও — তুমি শুধু সত্যিকারের মানুষ
যে ভালোবাসে, সে কখনো হারায় না।
হারায় সেই মানুষ—যে ভালোবাসা বুঝতে পারে না।
তুমি কাউকে চাইছো, জেনেও সে তোমার হবে না…
এটা দুর্বলতা না।
এটা অনুভূতির শক্তি।
আজ তোমার হৃদয় ভাঙছে,
কিন্তু একদিন তুমি এমন কারও জীবনে আলো হয়ে উঠবে—
যে তোমার ভালোবাসা দেখে নিজের জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত বলে মনে করবে।
তাই ভুলেও নিজেকে ছোট করে দেখো না।
তুমি বেইহায়া নও।
তুমি শুধু ভালোবাসতে জানো—
আর এটা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শক্তি।
❤️ **যদি লেখাটি ভালো লেগে থাকে—তবে তোমার বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করো।
তোমার একটি শেয়ার অন্য কারও মন ছুঁয়ে যেতে পারে।**
